অচেনা গাছের গল্প
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 33
গাছটা গ্রামের অন্য সব গাছের চেয়ে আলাদা—পাতাগুলো সবসময় কেমন যেন রূপালি রঙে ঝিকমিক করত। বাচ্চারা খেলতে এসে প্রায়ই বলত,
—“এ গাছটা নিশ্চয়ই যাদুর গাছ!”
কিন্তু গ্রামের লোকেরা ভয় পেত। কেউই গাছটার কাছে যেত না। তারা ভাবত, এর ভেতরে অশুভ কিছু লুকিয়ে আছে।
একদিন শহর থেকে আসল এক ছোট মেয়ে—মায়া। তার বাবার চাকরির বদলিতে তারা নতুন গ্রামে এসেছিল। মায়া একেবারেই ভীতু ছিল না। বরং অচেনা কিছু দেখলেই তার ভেতর কৌতূহল জাগত।
মায়া প্রতিদিন বিকেলে সেই রূপালি পাতার গাছটার নিচে গিয়ে বসত। ধীরে ধীরে লক্ষ্য করল—যখনই সে গাছের গুঁড়িতে হাত রাখে, তখনই কেমন শান্ত একটা অনুভূতি তার ভেতরে ছড়িয়ে যায়। যেন গাছটা নিঃশব্দে তার দুঃখ-কষ্ট শুষে নেয়।
একদিন স্কুলে গিয়ে মায়া বলল,
—“এই গাছটা ভয়ঙ্কর নয়, বরং খুব ভালোবাসার!”
বন্ধুরা প্রথমে হাসাহাসি করল। কিন্তু কয়েকজন সাহস করে তার সাথে গাছটার কাছে গেল। আশ্চর্যজনকভাবে, তাদেরও মনে হলো—গাছটার পাতার ঝিরঝির শব্দ যেন গান গাইছে।
খবর ছড়িয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষজনও কাছে এল। তারা দেখল—গাছের নিচে বসলে সত্যিই মনটা শান্ত হয়ে যায়।
কয়েক মাস পর, গাছটার চারপাশে গ্রামের লোকেরা বসে আড্ডা দিতে শুরু করল, বাচ্চারা খেলা করতে লাগল। আর যেটাকে সবাই অশুভ ভেবেছিল, সেটাই গ্রামের মিলনস্থল হয়ে উঠল।
একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধ বললেন,
—“আমরা এতদিন ভয় পেতাম আমাদের অজ্ঞানতার কারণে। আসলে অচেনা মানেই ভয়ঙ্কর নয়। অনেক সময়, অচেনার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে আমাদের সবচেয়ে বড় উপহার।”
মায়া হাসল। সে বুঝল—ছোট্ট মেয়েটিই আসলে বদলে দিয়েছে পুরো গ্রামের মানসিকতা।
গাছটা দাঁড়িয়ে রইল নীরবে,
পাতাগুলো ঝিকমিক করতে থাকল—
হয়তো আনন্দে, হয়তো ভালোবাসায়।
কখনও কখনও অচেনাকে গ্রহণ করার সাহসই আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আলো হয়ে ওঠে।
No comments yet.