অমৃতফুলের সন্ধান - রূপকথার গল্প | বাংলা গল্প

অমৃতফুলের সন্ধান

রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 314

অনেক অনেক দিন আগে, গঙ্গা-যমুনার তীর ঘেঁষে এক শান্তিপূর্ণ রাজ্য ছিল। সেই রাজ্যের নাম ছিল অমরাবতী, আর রাজা ছিলেন রাজেন্দ্রবাহু। তিনি ন্যায়পরায়ণ হলেও একটাই দুঃখ ছিল—তার কন্যা রাজকুমারী সুরভি জন্ম থেকে এক রহস্যময় অসুখে ভুগছিল। অসুখ এমন যে, তার শরীর দিনে দিনে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল, আর রাজ্যের কোনো বৈদ্য কিংবা আচার্যই ওষুধ খুঁজে পাচ্ছিল না।

একদিন রাজমহলের সভায় এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী এসে বললেন,

“হে মহারাজ, রাজকন্যাকে সুস্থ করতে হলে অমৃতফুল নিয়ে আসতে হবে। সেটি ফোটে অরুণাচল পর্বতের চূড়ায়, তবে শুধুমাত্র পূর্ণিমার রাতে। কিন্তু সাবধান! সেই ফুল রক্ষা করে দেবনাগিনী—অর্ধেক সাপ, অর্ধেক মানবী এক অমর প্রাণী।”

রাজা সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কে আছো আমার রাজকন্যার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত?”
সভায় অনেক রাজপুরুষ চুপ রইল। কিন্তু তখন উঠে দাঁড়াল এক সাধারণ রাজকুমারের পোশাকহীন, কৃষ্ণবর্ণ তরুণ—তার নাম অর্জুন। সে ছিল রাজ্যের দরিদ্র মালীপুত্র।

“মহারাজ, আমি যাব অমৃতফুল আনতে,” দৃঢ় কণ্ঠে বলল অর্জুন।

সবাই প্রথমে হাসল। “এক মালীপুত্র দেবনাগিনীর মুখোমুখি হবে?”
কিন্তু রাজা জানতেন, সাহস আর নিষ্ঠাই প্রকৃত বীরের পরিচয়। তিনি অনুমতি দিলেন।


অর্জুন লাঠি, ভেষজ তেল আর তার পিতার দেওয়া পুরোনো ধুতির পুঁটলি নিয়ে যাত্রা শুরু করল। পথে সে নানা বাধার সম্মুখীন হল—

বনদেবীর জঙ্গলে মায়াবী হরিণের ধাঁধা সমাধান করতে হল।

যমুনার উত্তাল স্রোতে নাগকন্যা মায়ার দেওয়া এক শঙ্খ বাজিয়ে পার হতে হল।

শেষে পৌঁছল অরুণাচল পর্বতের গুহায়।

পূর্ণিমার রাতে অমৃতফুল ফুটে ওঠল। ফুলটি আলো ছড়াচ্ছিল যেন গঙ্গাজলের ফোঁটার মতো। তখনই বেরিয়ে এল দেবনাগিনী। তার চোখ জ্বলজ্বল করছে, কণ্ঠে বজ্রধ্বনি,

“মানুষ! তুমি আমার অমৃতফুল নিতে এসেছ? জানো এর মূল্য তোমার প্রাণ!”

অর্জুন ভয় পেল না। সে প্রণাম করে বলল,

“দেবী, আমার কোনো স্বার্থ নেই। আমি আমার রাজকন্যার জীবন বাঁচাতে এসেছি।”

দেবনাগিনী তার অন্তর দেখলেন। মানবজাতির মধ্যে এমন নির্লোভ সাহসী হৃদয় বিরল। তিনি বললেন,

“তুমি সৎ। কিন্তু এর বিনিময়ে তোমাকে এক প্রতিজ্ঞা করতে হবে—যদি ফুলের ক্ষমতায় রাজকন্যা বাঁচে, তুমি রাজকন্যাকে ভালোবাসলেও তার হাতে দাবি জানাবে না। তার ভাগ্য তার নিজের হাতে থাকবে।”

অর্জুন সম্মত হল। দেবনাগিনী তাকে অমৃতফুল দিলেন।


অর্জুন ফুল নিয়ে ফিরল। সুরভির অসুখ সেরে গেল। রাজা খুশি হয়ে অর্জুনকে রাজপুত্র বানানোর প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু অর্জুন দেবনাগিনীর দেওয়া প্রতিজ্ঞা ভাঙল না। সে বলল,

“রাজকন্যার জীবন আমার পুরস্কার। আমি আমার ফুলের বাগানেই ফিরে যেতে চাই।”

রাজা অবাক হলেন। রাজকন্যা সুরভি তখন চুপচাপ শুনছিল। কয়েকদিন পরে সে স্বেচ্ছায় অর্জুনের বাগানে গিয়ে বলল,

“তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ, আমার মনও তোমার কাছে। তুমি আমাকে দাবি করোনি, তাই আমি নিজেই তোমাকে বেছে নিলাম।”

রাজা রাজি হলেন। অমৃতফুলের আলোয় সেদিন রাজপ্রাসাদে এমন উৎসব হল যা অমরাবতী রাজ্য কখনও ভুলতে পারেনি।

গল্পের শিক্ষা:

সাহস, সততা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল কখনো ব্যর্থ হয় না। নিজের স্বার্থ না দেখে যে সত্যিকারের নিষ্ঠা ও শ্রম দেয়, তার পথ দেবতারাও খুলে দেন।

Comments

Please login to post a comment.

No comments yet.

সাম্প্রতিক গল্প

অদৃশ্য লাইব্রেরি

অদৃশ্য লাইব্রেরি

By apuguin in জীবনমুখী গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 52
হ্যারিকেনের আলো

হ্যারিকেনের আলো

By apuguin in হৃদয়স্পর্শী গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 85
বাবার সাইকেল

বাবার সাইকেল

By apuguin in পারিবারিক গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 79