অদৃশ্য লাইব্রেরি
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 52
কিন্তু আজকাল বই পড়ার লোক কোথায়? সবাই ফোনের স্ক্রলিং আর নোটিফিকেশনের দুনিয়ায় ব্যস্ত।
এক সন্ধ্যায় অরিনের জীবনে ঘটে গেল অদ্ভুত এক ঘটনা।
ঘরের লাইট অফ করে শুয়ে আছে সে। হঠাৎ জানালা দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে তাকাল—দেখল একটা বইয়ের পাতা যেন নিজে নিজেই ওল্টে যাচ্ছে।
অদ্ভুত বিষয় হলো—ঘরে কোনো খোলা বইই ছিল না!
ভয়ে অরিন উঠে দাঁড়াল। দেখল ঘরের এক কোণে হালকা নীলচে আলো জ্বলছে।
আর সেই আলো থেকে ভেসে উঠেছে একটা দরজা। দরজার ওপারে দেখা গেল—অসংখ্য বই আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি বইয়ের মলাটে লেখা: “অপঠিত গল্প।”
কৌতূহল সামলাতে না পেরে অরিন দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন এক অদ্ভুত বৃদ্ধ—সাদা লম্বা দাড়ি, রূপালি ফ্রেমের চশমা, মুখে শান্ত হাসি।
বৃদ্ধ বললেন,
—“স্বাগতম অদৃশ্য লাইব্রেরিতে। এখানে সেই গল্পগুলো থাকে, যেগুলো কেউ কখনো লেখেনি বা পড়েনি। তুমি কি একটা পড়তে চাও?”
অরিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
—“লেখা হয়নি, অথচ এখানে বই আকারে আছে কেমন করে?”
বৃদ্ধ হেসে বললেন,
—“যে গল্প মানুষের মনে আসে কিন্তু লেখা হয় না, যে কথা বলতে চায় কিন্তু মুখে আনে না—সব এখানে জমা হয়।
তুমি চাইলে এগুলোর যেকোনো একটা বেছে নিয়ে লিখতে পারো। তখনই সেটা পৃথিবীতে জন্ম নেবে।”
অরিনের চোখে জল এসে গেল।
সে মনে করল—তার বাবা একসময় উপন্যাস লিখতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু সংসারের দৌড়ঝাঁপে সেটা আর লেখা হয়নি।
অরিন ধীরে বলল,
—“আমি বাবার সেই অসম্পূর্ণ গল্পটা পড়তে চাই।”
হঠাৎ একটা বই বাতাসে ভেসে এসে তার হাতে পড়ল।
মলাটে লেখা: “একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন।”
অরিন যখন বইটা খুলল, হঠাৎ যেন বাবার কণ্ঠস্বর শোনা গেল। প্রতিটি শব্দে ছিল বাবার অনুভূতি, বাবার স্বপ্ন।
অরিন ঠিক করল, এই গল্পটা সে শেষ করবে। পৃথিবীকে শুনিয়ে দেবে বাবার না বলা কাহিনি।
পরের দিন থেকেই সে লিখতে শুরু করল।
সে বুঝল—জীবনে যে স্বপ্নগুলো অদৃশ্য থেকে যায়, সেগুলোকে কণ্ঠ দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় ভালোবাসা।
এরপর থেকে, প্রতি রাতেই অরিন সেই অদৃশ্য লাইব্রেরিতে যেতে লাগল।
হয়তো একদিন তুমিও সেই লাইব্রেরির কোনো বই হাতে পাবে—
যেটা এখনো পৃথিবীতে লেখা হয়নি।
কারণ প্রতিটি না-বলা গল্পেরও একটা নিজস্ব জীবন আছে।
No comments yet.