বাবার সাইকেল - পারিবারিক গল্প | বাংলা গল্প

বাবার সাইকেল

রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 79

ছোট্ট শহরের সরু গলির ভেতর প্রতিদিন সকালে একটা পুরোনো সাইকেলের শব্দ শোনা যেত—“টিং টিং।”
ওই সাইকেলেই প্রতিদিন স্কুলে যেত রাহুল।

সাইকেলটা নতুন ছিল না, বরং বেশ জীর্ণ। রং উঠে গেছে, সিটে ছোট ছোট ছেঁড়া দাগ, ব্রেকের তার মাঝে মাঝে ছিঁড়ে যায়। তবুও রাহুলের কাছে এটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস।

কারণ সাইকেলটা ছিল তার বাবার।

রাহুলের বাবা, একসময় পোস্টম্যান ছিলেন। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ মাথায় নিয়ে সেই সাইকেলেই তিনি চিঠি বিলি করতেন। রাতে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীর নিয়েও ছেলেকে কোলে তুলে হাসি দিতেন।

দুই বছর হলো বাবা নেই। হঠাৎ অসুখে চলে গেছেন।
কিন্তু রাহুল বিশ্বাস করে—বাবা এখনও তার সাথে আছেন, সেই সাইকেলের ভেতরেই।

প্রতিদিন সকালে সাইকেলে ওঠার আগে রাহুল সিটে হাত বুলিয়ে নেয়। মনে মনে বলে,
—“চলো বাবা, আজ আমরা একসাথে স্কুলে যাই।”

গ্রামের লোকেরা অনেকেই বলে,
—“এত পুরোনো সাইকেল ফেলে দাও, নতুন কিনো।”

কিন্তু রাহুল শুধু মুচকি হেসে উত্তর দেয়,
—“এটাই আমার সবচেয়ে দামী সম্পদ।”

একদিন স্কুলে সাইকেল রেসের আয়োজন হলো। সবাই নতুন চকচকে সাইকেল নিয়ে নামল। রাহুলও তার পুরোনো সাইকেল নিয়ে দাঁড়াল লাইনে।

বন্ধুরা হাসাহাসি করল,
—“এই মরচেধরা সাইকেল নিয়ে তুমি কি রেস জিতবে?”

রেস শুরু হলো। শুরুতে রাহুল অনেক পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো, বাতাসের ভেতর দিয়ে বাবার কণ্ঠ ভেসে আসছে—
—“হাল ছাড়িস না, পা চালিয়ে যা, আমি আছি তোকে ঠেলে।”

রাহুল প্রাণপণ চালাতে লাগল। শেষ মুহূর্তে সবার সামনে চলে এল।
ফিনিশ লাইনে পৌঁছেই সবার চোখে বিস্ময়—
পুরোনো সাইকেল নিয়েই সে প্রথম হলো!

পুরস্কার নিতে গিয়ে রাহুল আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—“এই জয় আমার নয়, আমাদের।”

আর পুরোনো সাইকেলের টিং-টিং শব্দে যেন ভেসে এলো বাবার হাসি।

শেষ কথা - ভালোবাসা আর স্মৃতির শক্তি, যেকোনো পুরোনো জিনিসকেও নতুন আলোয় ভরে তোলে।

Comments

Please login to post a comment.

No comments yet.

সাম্প্রতিক গল্প

অমৃতফুলের সন্ধান

অমৃতফুলের সন্ধান

By apuguin in রূপকথার গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 315
অদৃশ্য লাইব্রেরি

অদৃশ্য লাইব্রেরি

By apuguin in জীবনমুখী গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 52
হ্যারিকেনের আলো

হ্যারিকেনের আলো

By apuguin in হৃদয়স্পর্শী গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 85