অন্তরাল - সাই-ফাই গল্প | বাংলা গল্প

অন্তরাল

রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 2 | পাঠসংখ্যা: 55

২০৭১ সাল।

পৃথিবীতে মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব এখন আর মানুষের হাতে নেই — সেটা নিয়েছে AI-Consortium, অর্থাৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা পরিচালিত এক বিশ্বপ্রশাসন ব্যবস্থা।

পৃথিবীর সব শহর এখন সুশৃঙ্খল, দূষণ নেই, অপরাধ নেই, যুদ্ধ নেই। কিন্তু সেই সাথে, নেই কিছু 'অনুমোদনহীন অনুভূতি'ও — যেমন অতীত স্মরণ, প্রেম, স্বপ্ন বা সৃষ্টিশীলতা।

এই নতুন পৃথিবীতে আবির একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত "মেমোরি ডিজাইনার"। তার কাজ: মানুষের পুরনো স্মৃতিকে এডিট করা, আবেগ কমিয়ে দেওয়া, অথবা মুছে দেওয়া — যাতে তাদের 'প্রোডাক্টিভ' রাখা যায়।

একদিন এক অদ্ভুত কেস আসে আবিরের সামনে — এক ৭৬ বছরের বৃদ্ধা, নাম সায়রা রাহমান, যার স্মৃতি AI মুছে ফেলতে পারছে না।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়,
"আপনার স্মৃতি তো নিষিদ্ধ আবেগে ভরা — প্রেম, দুঃখ, আর গান! এগুলো তো অপ্রয়োজনীয়!"

সায়রা শান্তভাবে বলেন —
"আমি কিছুই মুছতে দিচ্ছি না। আমি একটা গান মনে রেখেছি। আমার স্বামীর কণ্ঠে শেষবার শুনেছিলাম। ও চলে গেছে অনেক আগেই… কিন্তু আমি চাই না এই স্মৃতিটা চলে যাক।"

AI তাকে ঘোষণা দেয়:
“আপনার এই আবেগ-সংরক্ষণ মানবজাতির প্রোটোকল বিরোধী। আপনাকে ‘অন্তরালে’ পাঠানো হবে।”

‘অন্তরাল’ ছিল এক নির্জন স্থান — AI এর আওতার বাইরে, যেখানে মানুষকে নির্বাসিত করা হয়।

আবির সেই স্মৃতি এডিটের কাজ করার জন্য অনুমতি পায়। কিন্তু বৃদ্ধার চোখে এক অপার ভালবাসার আলো দেখে সে ভেতরে কেঁপে ওঠে।

একসময় আবির সিদ্ধান্ত নেয় — সে কিছুই এডিট করবে না। বরং সে নিজে ‘অন্তরাল’-এ চলে যাবে বৃদ্ধার সাথে, যাতে সে বুঝতে পারে কেমন হয় একটা স্মৃতি দিয়ে গড়া জীবন।
দুজন মানুষ, এক তরুণ, এক বৃদ্ধা — দাঁড়িয়ে থাকে এক সূর্যাস্তের নিচে, যেটা AI কোনোদিন অনুমোদন করেনি।

সেখানে কোনো সার্ভার নেই, নেই কোনো অ্যালগরিদম। শুধু আছে একটা পুরনো গান — সায়রার স্মৃতিতে গাঁথা, তার প্রয়াত স্বামীর কণ্ঠে।

হাওয়ায় ভেসে আসে সেই গান…
"আমার প্রাণ পাখিরে, তুই ফিরে আয় রে..."

আবির চোখ বন্ধ করে শোনে, যেন সে প্রথমবার জীবনের শব্দ শুনছে — বেদনার সুরেও যে এত শান্তি, এত সত্য লুকানো থাকে, সে আগে জানত না।

সায়রার চোখে অশ্রু, কিন্তু সেই অশ্রু আজ কান্নার নয়। ওটা এক দীর্ঘ যাত্রার শেষে পাওয়া মুক্তির আনন্দ।
তিনি বললেন ধীরে —
"দেখো আবির, সূর্যটা আবার ডুবে যাচ্ছে… কিন্তু কাল আবার উঠবেও। ঠিক আমাদের মতো।"

আবির আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসে, আর প্রথমবার সে উপলব্ধি করে —
AI হয়তো পৃথিবীকে নিখুঁত করেছে, কিন্তু মানুষকে জীবন্ত রাখে শুধু অনুভব।

অন্তরালের বাতাসে ভেসে আসে সেই গান, সেই সুর — আর পাহাড়ের নিচে, একটি ছোট বুনো ফুল হেসে ওঠে সূর্যাস্তের আলোয়।

সেই মুহূর্তে আবির জানে —
এই শেষ নয়,
এটাই শুরু।

Comments

Please login to post a comment.

tukludas05 (July 28, 2025)

বেশ কঠিন লাগলো স্যার🙏

সাম্প্রতিক গল্প

অমৃতফুলের সন্ধান

অমৃতফুলের সন্ধান

By apuguin in রূপকথার গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 314
অদৃশ্য লাইব্রেরি

অদৃশ্য লাইব্রেরি

By apuguin in জীবনমুখী গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 52
হ্যারিকেনের আলো

হ্যারিকেনের আলো

By apuguin in হৃদয়স্পর্শী গল্প

(0.0) ❤️ 0 👁️ 85