অটোরিকশা
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 86
সন্ধ্যার বাতাসে গলির ধুলো উড়ছে, দোকানগুলো আধখোলা, আর দূরে গঙ্গার ঘাটে শঙ্খধ্বনি ভেসে আসছে।
অটোরিকশা চালক বিজয়, বয়স প্রায় পঁইত্রিশ। সারাদিন রোদে-ধুলোয় ছুটে বেড়ায় শহরের গলি থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত।
আজ সারাদিনের আয় খুব বেশি হয়নি—মোটে ১৮০ টাকা।
এই টাকা দিয়ে তাকে চাল কিনতে হবে, মেয়ের স্কুল ফি দিতে হবে, আর বাবার ওষুধ কিনতে হবে।
সন্ধ্যা নামছে, বিজয় ভাবল আরেকটা রাইড নিয়ে তারপর বাসায় ফিরবে।
স্টেশন মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল এক বৃদ্ধা—গায়ের শাড়ি ফিকে হয়ে গেছে, হাতে কাপড়ের ছোট ব্যাগ।
বৃদ্ধা নরম গলায় বললেন,
— “বাবা, হাসপাতাল যাব, কত নেবে?”
বিজয় বলল,
— “৪০ টাকা।”
বৃদ্ধা মাথা নেড়ে উঠে বসলেন।
হাসপাতালে পৌঁছে বৃদ্ধা ব্যাগ থেকে হাতড়ে বের করলেন মাত্র ১০ টাকার একটা নোট।
— “এইটুকুই আছে।”
বিজয়ের মুখ গরম হয়ে উঠল।
— “এ কী? আগে বলতে পারতেন না? আমি সারাদিন খেটে খাই, এইভাবে তো আর চলবে না!”
বৃদ্ধা কিছুক্ষণ চুপ রইলেন, তারপর ফিসফিস করে বললেন,
— “বাবা, আমার ছেলে অসুস্থ… হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে , আমার কাছে যে আর কিছুই নেই।”
এই কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ের চোখে তার নিজের বাবার চেহারা ভেসে উঠল—যিনি এখন বাড়িতে বিছানায় শুয়ে আছেন, ওষুধের জন্য অপেক্ষা করছেন।
তার গলা নরম হয়ে গেল।
— “টাকা লাগবে না, আপনি নেমে যান।”
বৃদ্ধা কিছু বলতে গেলেন, কিন্তু বিজয় মাথা নেড়ে চুপ করিয়ে দিল।
— “যত তাড়াতাড়ি পারেন, ভালো করে চিকিৎসা করান।”
বৃদ্ধা ধীরে ধীরে নামলেন, কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে তাকালেন, আর হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে গেলেন।
বিজয় কিছুক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে রইল, যেন নিজের বাবাকে হাসপাতালের দরজা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখছে।
সেই রাতে বিজয় আর কোনো যাত্রী নেয়নি।
শান্তিপুরের গলি পেরিয়ে তার অটো ফিরছিল, মাথায় শুধু একটা কথাই বাজছিল—
"যদি আজ আমার বাবার জায়গায় কেউ থাকত, আমিও চাইতাম কেউ তাকে এভাবে সাহায্য করুক।"
নীতিকথা:
"মানুষের প্রকৃত সম্পদ টাকা নয়, মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি। আজ কারও পাশে দাঁড়ানোই কাল আপনার প্রিয়জনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ফিরে আসতে পারে।"
No comments yet.