ভুলে যাওয়ার আগেই
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 2 | পাঠসংখ্যা: 66
শুভম যখন কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিল, তখন তার ফোনটা বেজে উঠল।
— “স্যার, আপনার বাবা সকালে একা বেরিয়ে গিয়েছেন। আবার পার্কে গিয়ে পথ ভুলে গেছেন।”
শুভম ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল। এটা নতুন কিছু নয়।
তার বাবা, অমল চট্টোপাধ্যায়—একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। স্মৃতি ছিল তীক্ষ্ণ, যুক্তি ছিল শাণিত।
কিন্তু এখন?
তিনি ভুলে যান নিজের ঘরের পথ, নিজের সন্তানের নাম, এমনকি মাঝেমাঝে নিজেকে।
অধ্যায় ২: দেয়ালের ছবিগুলো
বাড়ির দেয়ালে অমলবাবুর পুরোনো দিনের নানা ছবি টাঙানো—
• বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তৃতা দিচ্ছেন,
• স্ত্রী’র সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছেন,
• ছোট শুভমের জন্মদিনে কেক কাটছেন।
আজ তিনি ওই ছবিগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকক্ষণ, যেন তাদের চিনতে চেষ্টা করছেন।
একদিন শুভমকে জিজ্ঞেস করলেন—
— “ছেলেটা কে? এই ছবির?”
শুভমের চোখে জল জমে উঠল।
— “ওইটা আমি… আপনার ছেলে।”
অমলবাবু একটুও চমকান না। শুধু বলেন—
— “ভালো ছেলে মনে হচ্ছে…।”
একদিন শুভম পুরনো ট্যাবলেটটা খুঁজছিল , দেখতে পেলো বাবার ফোনটা সোফার উপরে পরে রয়েছে । অজান্তেই তা হাতে তুলে নিল । লক ছিল না তাই খুলে গেল সহজেই । ফোনের গ্যালারি খুলতেই চোখে পরল একটি মাত্র রেকর্ডিং। চালু করল।
স্পিকারে ভেসে এল বাবার কণ্ঠ—
ধীরে ধীরে, পরিষ্কারভাবে…
“এই রেকর্ডটা আমি করছি শুভমের জন্য। হয়তো একদিন আমার মনে থাকবে না, কীভাবে সে হাঁটতে শিখেছিল, কীভাবে বলেছিল—‘বাবা’।
আমি চাই, যেদিন আমার স্মৃতি আমায় ছেড়ে যাবে, সেদিন এই কথাগুলো শুনে শুভম জানুক—
আমি ওকে ভালোবাসি। আমি গর্ব করি ওর জন্য।
যদি কখনো আমি ওকে চিনতে না পারি, ও যেন জানে—এই কণ্ঠ, এই ভালোবাসা হারাবে না। হারিয়ে গেলেও… এটা রয়ে যাবে।”
শুভম থম ধরে বসে রইল।
স্মার্টফোনের আলো আর বাবার জড়ানো গলায় আবৃত সেই কথাগুলো যেন আঘাত করল বুকের গভীরে।
অধ্যায় ৪: পরিচয়হীন এক দুপুর
একদিন দুপুরে অমলবাবু পত্রিকা পড়ছিলেন। হঠাৎ শুভম তার পাশে বসতেই তিনি বলে উঠলেন—
— “তুমি... তুমি কি আমার ছাত্র?”
শুভম মৃদু হেসে বলল—
— “না… আমি আপনার সেই ভুলে যাওয়া ছেলেটা।”
অমলবাবু চমকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ এক অদ্ভুত নরম হাসি মুখে ফুটল।
— “তাহলে তো তুমি আমার সবথেকে আপনজন।”
শুভম মাথা নিচু করে ফেলল, আর নিজের হাতটা বাবার কাঁপতে থাকা আঙুলে রেখে চেপে ধরল।
শেষ লাইন:
কখনো কখনো সম্পর্ক শুধু মনে রাখা নয়,
বরং ভালোবাসা দিয়ে প্রতিদিন নতুন করে চিনে নেওয়ার নামই পরিবার।
No comments yet.