ছায়া
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 67
(একটি নীরব সত্যের গল্প)
রুদ্র একটা ছোট কেবিনে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। মেঘলা দিন। নিচে পাহাড়ি নদী, ওপরে ধূসর আকাশ। সবকিছু স্তব্ধ। এমনকি তার ভেতরটাও।
চার দিন হলো সে এই পাহাড়ে এসেছে, একা। কারো কিছু না জানিয়ে। ফোন বন্ধ, ইন্টারনেট অফ, বাইরের দুনিয়া যেন আর নেই।
এই একাকিত্ব সে খুঁজে বেড়াচ্ছিল অনেকদিন ধরে। শহরের কোলাহল, মানুষের মুখোশ, সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিমতা—সব কিছু থেকে সে হাঁপিয়ে উঠেছিল।
কিন্তু আশ্চর্য, যেটা থেকে পালাতে এসেছিল, তা যেন তার সঙ্গে সঙ্গেই এসেছে—নিজের ছায়া।
পাহাড়ে দাঁড়িয়ে থেকেও সে টের পায় ভেতরের সেই কথাগুলো, যেগুলো সে চুপচাপ গিলে গেছে বছরের পর বছর।
বাবার মুখে “তুমি ব্যর্থ” শব্দটা, প্রেমিকার চোখের সেই নিঃশব্দ অভিমান, নিজের আয়নার সামনে বলা “আমি ঠিক আছি” নাটকটা—সব একে একে ফিরে আসে।
একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ সে একটা বৃদ্ধাকে দেখে, পাহাড়ের কোণে বসে হাসছেন। রুদ্র কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“এখানে একা থাকেন?”
বৃদ্ধা বলেন,
“নাহ্, আমি তো আমার সঙ্গে থাকি।”
রুদ্র মুচকি হেসে বলে, “সেটা তো সবাই বলে।”
বৃদ্ধা এবার গম্ভীর গলায় বলেন,
“সবাই বলে, কিন্তু সবাই বোঝে না। নিজের ছায়া যতদিন অবহেলায় রাখো, ততদিন তুমি একা। যেদিন নিজের ছায়ার সঙ্গে কথা বলতে শিখবে, সেদিনই একাকিত্ব তোমার ঘর ছেড়ে যাবে।”
সেই রাতে রুদ্র ঘুমায় না। সে জানালার পাশে বসে থাকে। ভোরে প্রথম সূর্যের আলো পড়ে তার গায়ে। সে অনুভব করে—নিজেকে নতুন করে চেনা শুরু করেছে।
ছায়া তো তার শত্রু ছিল না কখনো, ছিল তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাথী। শুধু সে তাকাতে শেখেনি কখনো।
সে এবার নিচে নদীর দিকে হাঁটতে যায়। কাঁধে ব্যাগ নেই, হাতে ফোন নেই। শুধু ছায়া আছে—তার ঠিক পাশে।
শেষ।
No comments yet.