ছেঁড়া বোতাম
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 2 | পাঠসংখ্যা: 36
“আবার বোতাম ছিঁড়ে গেল রণজয়?”
স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অর্ক জিজ্ঞেস করল।
রণজয়ের স্কুল ইউনিফর্মের উপরের বোতামটা আলগা হয়ে দুলছিল, আর নিচের একটা বোতাম সেলাই ছাড়িয়ে নিচে ঝুলে ছিল।
রণজয় হেসে বলল,
“হ্যাঁ, মাঝে মাঝেই এমন হয়। অনেক পুরোনো তো… কিন্তু তবুও বদলাতে ইচ্ছা করে না।”
ঠিক তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল কয়েকজন সহপাঠী।
একজন খোঁচা দিয়ে বলল,
“দেখ দেখ, ভাই রনজয়ের জামার বোতামগুলো দেখ !”
আরেকজন হেসে বলল,
“রণজয়ের জামা না, বোতামের প্রদর্শনী!”
আসলে, রণজয়ের বাবা একজন দর্জি ছিলেন। মা ছোটবেলায় মারা গিয়েছেন। একমাত্র বাবার হাত ধরেই সে বড় হয়েছে। অভাব ছিল, তবুও তার প্রতিটি জামা নিজ হাতে সেলাই করে দিতেন বাবা। বোতাম ছিঁড়ে গেলে নিজের পুরনো জামা থেকে খুলে এনে জুড়ে দিতেন সন্তানের জামায়—ভালোবাসার সেলাই দিয়ে।
ফলে রণজয়ের জামার সব বোতামগুলোই আলাদা রঙ, আকার আর ধরনও আলাদা ।
কিন্তু বছরখানেক হলো, সেই বাবাও আর নেই।
এখন রণজয় নিজেই জামা কাচে, রান্না করে, পড়ে, টিউশন পড়ায়, আর সেই পুরনো ইউনিফর্মে ছেঁড়া-সেলাই-করা বোতাম পরেই স্কুলে আসে। নতুন জামা কেনার সামর্থ্য তার নেই। আসলে, সে চায়ও না।
একদিন স্কুলে নতুন জামার ফর্ম ফিলাপ চলছিল। এক শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন,
“রণজয়, তোর নতুন জামা নেওয়ার দরকার নেই?”
রণজয় মাথা নিচু করে বলল,
“স্যার, এই জামাটা আমার বাবার হাতে বানানো… এই বোতামগুলো তিনি নিজে সেলাই করেছিলেন। প্রতিটা বোতামে তাঁর স্পর্শ আছে। আমি এসব বদলাতে পারি না, স্যার।”
এক মুহূর্তের জন্য পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
সেই দিন থেকে কেউ আর রণজয়ের ছেঁড়া বোতাম নিয়ে হাসে না। বরং তার বোতামগুলো হয়ে উঠল সাহসের, স্মৃতির আর ভালোবাসার প্রতীক।
tukludas05 (August 6, 2025)
মন ছুঁয়ে গেল 👌
আর একটা কথা স্যার যে,আমার কোনো জিজ্ঞাস্য থাকলে কি ভাবে কার সাথে যোগাযোগ করবো?
আর সাম্প্রতিক গল্প গুলোর নতুন সংযোজন গুলো আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমাকে পেজে লগইন করে সার্চ করে দেখতে হচ্ছে। এর সমাধান হবে না। আর আপনার নং টা পেতে চাই সেটা কি সম্ভব স্যার?