ছোট কাঁধ, বড় দায়িত্ব
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 49
মা গত বছর চলে গেছেন হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে। দুনিয়া যেন একদিনে পাল্টে গেল।
রিয়া সেই থেকে আর শিশু নেই। সকাল ৬টায় উঠে এক গামলা জল গরম করে, বাবাকে স্নান করায়, ওষুধ দেয়। তারপর হাতে একটা পাটের ব্যাগ নিয়ে বের হয় বাজারে—না কেনাকাটা করতে নয়, দোকানে দোকানে হাঁটে পুরনো খবরের কাগজ, কাচের বোতল, প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে। কেউ দেয়, কেউ গাল পাড়ে।
একবার কেউ বলেছিল,
— "এই বয়সে স্কুলে থাকার কথা তোমার!"
রিয়া হেসে বলেছিল,
— "আমার স্কুল এখন বাবার বিছানার পাশটুকু, বই আমি রাতে পড়ি। দিনটা তো বাবাকে বাঁচানোর লড়াই।"
রিয়া যখন দেখে পল্টু কেঁদে উঠছে, তখন সে তার পুরনো জামা ছিঁড়ে কাপড়ের পুতুল বানায়।
একবার পল্টু বলেছিল,
— "দিদি, তুই না হলে আমাদের কে দেখত বলতো?"
রিয়া একটু চুপ করে বলেছিল,
— “তুই মানুষ হ, আমি এটুকুই চাই।”
পাড়ার কেউ কেউ সাহায্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু রিয়া সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেয়,
— “দয়া নয়, আমি কাজ করতে রাজি।”
এভাবেই ছোট্ট মেয়েটা ধীরে ধীরে এক নিঃশব্দ সংগ্রামীতে পরিণত হয়—না আছে ফ্ল্যাশ, না সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, না কোনো পত্রিকায় নাম।
একদিন সন্ধ্যায় গ্রামে মেডিকেল ক্যাম্প এলো। ডাক্তার রিয়ার বাবাকে দেখে বললেন,
— “ঠিকমতো ওষুধ পেলে উনি আবার হাঁটতে পারবেন।”
রিয়ার চোখে জল। বহুদিন পর কিছুটা আশা।
সেদিন রাতে সে মাটিতে শুয়ে ছিল পল্টুর পাশে। ছাদের ফাঁক দিয়ে তারা দেখা যাচ্ছিল।
পল্টু বলল,
— “দিদি, আমি বড় হয়ে কী করবো জানিস?”
রিয়া জিজ্ঞেস করল,
— “কি?”
পল্টু বলল,
— “তোকে স্কুলে পড়াবো, তোকে ঘুরতে নিয়ে যাবো, আর আমাদের একটা বড় ঘর হবে।”
রিয়া কিছু বলল না। শুধু পল্টুর মাথায় হাত রেখে মুচকি হেসে বলল,
— “তুই থাকলেই, আমার সব আছে।”
শেষ কথা:
সব গল্পে নায়ক বা নায়িকা থাকে না, কিছু গল্প শুধু “মানুষ” দিয়ে গড়া হয়। রিয়া তাদেরই একজন—যারা কাঁধে পৃথিবী না তুলে, নিজের ছোট্ট পরিবারটাই বাঁচিয়ে রাখে।
No comments yet.