একটা কাঁথার গল্প
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 2 | পাঠসংখ্যা: 103
কিন্তু রাতে ঘুমোতে গেলে আজও একটা পুরোনো জিনিস তাকে আগলে রাখে —
একটা কাঁথা।
এই কাঁথাটা তার মা, সরলা বালার শেষ উপহার।
ছেঁড়া, রং চটে যাওয়া, তবুও সেটা গায়ে দিলেই রাত্রির মনে হয় — মা তাকে জড়িয়ে ধরেছেন।
রাত্রির মা ছিলেন একজন গ্রাম্য দাই।
অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের বাসায় গিয়ে সন্তান প্রসব করাতেন।
ডাক্তারি ডিগ্রি ছিল না, কিন্তু হাতে ছিল মায়া।
তিনিই নিজের মেয়েকে বলেছিলেন —
“আমি সারা জীবন অন্যের সন্তানকে জন্ম দিয়েছি, কিন্তু তুই একদিন তাদের বাঁচাবি।”
রাত্রির বাবা ছেড়ে চলে গেছিলেন ছোটবেলায়।
তাদের গ্রামে বলত, “ওদের ঘরটা অভিশপ্ত।”
স্কুলে রাত্রিকে কেউ বসতে দিত না একসাথে।
কিন্তু মা প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলো জ্বালিয়ে বলতেন,
— “আমার মেয়েটা একদিন নার্স হবে, সাদা জামা পরবে। তখন সবাই তাকিয়ে দেখবে।”
একদিন প্রসব করাতে গিয়ে সরলা বালা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান।
তখন রাত্রির বয়স ১৯।
মায়ের ভাঁজ করা কাঁথার ভেতর থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৭৭০ টাকা,
একটা কাগজে লেখা ছিল —
“রাত্রি তোর ফর্ম ফিলাপের টাকা। কলেজে ভর্তি হয়ে যাস।”
আজ রাত্রি তৃতীয় বর্ষের নার্সিং স্টুডেন্ট।
তার কাছে এখনও থাকে সেই কাঁথাটা ।
যেদিন প্রথম ইনজেকশন দিয়েছিল, ভয় পেয়েছিল,
রাতের বেলা কাঁথাটা জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল।
মনে হয়েছিল, মায়ের হাত ঠিক কাঁধে এসে বলছে —
“তুই পারবি মা।”
আজ সে স্টাইপেন্ড পায়। কিন্তু ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করেনি।
গ্রামে মায়ের অসমাপ্ত কুঁড়ে ঘরটা সে ইট দিয়ে বানাতে চায়।
ঘরের জানালার পাশে একটা খাট থাকবে।
তার ওপরে সেই কাঁথাটা।
tukludas05 (August 7, 2025)
খুব সুন্দর👌