কাঁসার থালা
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 3 | পাঠসংখ্যা: 278
নদীর ধারে ছোট্ট একটা গ্রাম—আন্দুলবাড়ি। সেখানেই থাকতেন বৃদ্ধা চন্দনা দেবী। বয়স আশি ছুঁই ছুঁই। চোখে কম দেখে, হাঁটেন লাঠি ভর করে। কিন্তু মন এখনও চঞ্চল, যেমনটা ছিল তার যৌবনে।
তিন ছেলে—তিনজনেই শহরে, নিজেদের মতো করে ব্যস্ত। ছেলেরা কেউই মায়ের কাছে থাকতে চায় না। একমাত্র বড় ছেলে অমিত মাঝে মাঝে গ্রামে এসে দেখে যায়, কিছু বাজার করে দিয়ে যায়। আর বাকিরা ফোনেও তেমন খোঁজ নেয় না।
দুর্গাপুজো এল, কিন্তু কেউ এলো না
চন্দনা দেবীর সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল দুর্গাপুজোর দিনগুলো। আগে সব ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি মিলে বাড়ি ভরে উঠত। হাসি-গল্প, ভোগ রান্না, নতুন শাড়ি—সব মিলিয়ে এক উৎসব।
কিন্তু এবার… কেউ এলো না।
বড় ছেলের স্ত্রী ফোনে বলল,
"মা, এই বছর তো ছুটি পেলাম না। ছেলেও স্কুলে ব্যস্ত। আপনার কাছে তো যাওয়া মানেই শুধু সময় নষ্ট…"
চন্দনা দেবী চুপ করে থাকলেন। কেবল রান্নাঘরে গিয়ে ধীরে ধীরে একটা কাঁসার থালা মুছে নিলেন—যেটা তার মা তাকে দিয়েছিলেন বিয়ের সময়। সেই থালাতেই প্রতিবার ভোগ সাজাতেন, আর ছেলেরা খুশি হয়ে খেত।
এবার সেই থালা নিঃসঙ্গ।
ছোট্ট অচেনা একটি ছেলে ।
পুজোর অষ্টমীর দিন সকালে দরজায় কড়া নাড়ল এক ছোট ছেলে—রঙচটা জামা, চোখে লাজুক চাহনি।
"ঠাম্মি, ভোগ দেবেন?"
চন্দনা দেবী অবাক হয়ে গেলেন।
"তুই আমাকে চেনিস?"
"আপনি তো ঠাম্মিই, না? পাশের পুকুরপাড়ে বসে গল্প করেন… আমি শুনি সবসময়।"
চোখে জল চলে এলো বৃদ্ধার। সে ছেলেটিকে ঘরে ডেকে নিল। কাঁসার থালায় পরিপাটি করে ভোগ সাজিয়ে দিল। আর বলল,
"ভোগ কেবল খাওয়ার জিনিস নয় রে, এটা একটুকরো মায়া, যেটা কেউ চাইলেই পায় না…"
apuguin (June 17, 2025)
hello this is chek