ক্ষমা
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 2 | পাঠসংখ্যা: 74
৭৮ বছর বয়সী হরিপদ বসু— রিটায়ার্ড স্কুল মাস্টার। হাতে একটা পুরনো চিঠি, চোখে চশমার পেছনে জমে থাকা অশ্রু।
চিঠিটার তারিখ ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর।
লিখেছিল তার একমাত্র মেয়ে, মিতালি—
"বাবা, আমি জানি তুমি রাগ করেছো, কিন্তু আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। তুমি হয়তো আমাকে ক্ষমা করবে না, তোমার ঘরের দরজা হয়তো চিরকালের জন্য বন্ধ । কিন্তু যদি কোনদিন ক্ষমা করো ! জানি না, হয়তো এটাই আমার শেষ চিঠি। তোমার মেয়ে, মিতালি।"
সেইদিনই হরিপদ দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, মনের দরজাও।
তারপর কেটে গেছে ২৮ বছর।
বউ মারা গেছে, পাড়ার সবাই বদলে গেছে, কিন্তু স্টেশনটা বদলায়নি।
আজ মিতালি বলেছে সে আসবে— অনেক অনুরোধ, অনেক কান্নার পর হরিপদ বলেছিলেন,
“শেষ ট্রেনটা ধরিস, তোর বাবা এখানেই অপেক্ষা করবে।”
ঘড়িতে রাত ৯টা বেজে ৫০। প্ল্যাটফর্মে শীতল হাওয়া বইছে। হরিপদর শরীর কাঁপছে, কিন্তু সে অপেক্ষা ছাড়ে না।
দূরে হেডলাইট দেখা যাচ্ছে। গড়িয়াহাট লোকাল আসছে।
ট্রেন থামে।
মানুষ নেমে যায়, কেউ কেউ উঠে পড়ে।
কিন্তু কেউ আসে না হরিপদের দিকে।
তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন, চোখ খুঁজে বেড়ায় মুখের ভিড়ে একটা পরিচিত ছায়া।
না…
শেষ যাত্রীটাও বেরিয়ে যায়।
ট্রেনটা হুইসেল দেয়, আবার গড়িয়ে চলে যায়।
স্টেশনে আবার নিস্তব্ধতা।
হরিপদ ধীরে ধীরে বেঞ্চে বসেন।
চিঠিটা আবার খুলে দেখেন, যেন মেয়েটার গন্ধ মিশে আছে এখনও।
হঠাৎ, তার কাঁধে নরম একটা হাত।
“বাবা...”
হরিপদ মাথা তুলে তাকান।
চোখের সামনে দাঁড়িয়ে একজন মাঝবয়সী নারী। চোখে জল, হাতে ছোট্ট একটা মেয়ের হাত ধরা।
“তুই… তুই এলি…?”
গলা যেন হরিপদের আটকে গেল।
মিতালি কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরে বলে,
“তোমাকে দেখেই বুঝে গেছি তুমি এখনো অপেক্ষা করো। মা বলত, বাবা রাগ করে ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসাটা কোনোদিন ফুরায় না।”
হরিপদ সেই ছোট্ট মেয়েটার দিকে তাকান।
“এটা কে রে?”
মিতালি হাসে, চোখে জল, ঠোঁটে শান্তি—
“তোমার নাতনি, নাম রেখেছি মা এর নামে— অনিমা।”
হরিপদর চোখে জল, বুক ভরে ওঠে।
tukludas05 (July 28, 2025)
খুব ভালো লাগলো 👌