মনে আছে মা
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 46
চেয়ারে বসে আছেন ৭২ বছরের বিধবা নারী, সরলা দেবী। পরনে সাদা তাঁতের শাড়ি, কপালে সিঁদুর নেই বহু বছর।
চোখে শূন্য দৃষ্টি। মাঝে মাঝে নিজেই নিজের সাথেই কথা বলেন।
ভেতরের ঘরে ঢোকে তার মেয়ে, মীনা। বয়স পঁয়ত্রিশ। সরকারি স্কুলে পড়ান। হাতে দুই কাপ চা।
“মা, চা খাবে?”
সরলা একটু চমকে ওঠেন।
“তুই কে?”
“মা… আমি তোমার মেয়ে… মীনা।”
এক মুহূর্ত চুপ, তারপর হালকা হাসি—
“না রে, আমার মীনা তো সাত বছর বয়সে মারা গেছে। তুই ভুল বলছিস।”
মীনা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
তিন বছর হলো, মায়ের ডিমেনশিয়া ধরা পড়েছে।
একদিন মনে রাখেন, পরদিন সব মুছে যায়।
এই ভাবেই একটা মেয়েকে প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করতে হয় মায়ের সামনে।
রাতের খাবার সময়।
মীনা থালায় ভাত, ডাল আর ডিম ভাজা দেয়।
“মা, খাও। ডিমটা তোমার প্রিয়।”
সরলা হঠাৎ থেমে যায়।
“তুই কি আমার মেয়ে? তোর চোখ… একদম আমার মত…”
মীনা হাসে, চোখে জল টলমল।
“হ্যাঁ মা, আমি তোমার মেয়ে। তুমি আজ ভুলে যাও নি?”
মা হঠাৎ হাত বাড়িয়ে গালে হাত রাখেন।
“তুই তো বলেছিলি, আমাকে ছেড়ে যাবি না। আজ এত বড় হয়ে গেছিস... কিন্তু তুই তো আমার মীনা না... তাই না?”
মীনা কিছু বলে না। শুধু খাওয়ার থালাটা সামনে এগিয়ে দেয়।
রাত গভীর।
মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। মীনা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
হঠাৎ মায়ের মুখে ফিসফিস শব্দ—
“মীনা… আমি জানি, তুই আমার মেয়ে।
সব ভুলে যাই রে… শুধু তোর মুখটা ভুলি না।
তুই মা বলেছিলিস, কখনো ছেড়ে যাবি না…”
মীনা ফুঁপিয়ে ওঠে। কাঁপা গলায় বলে—
“আমি আছি মা… প্রতিদিন ফিরে আসব, যতবারই তুমি ভুলে যাও…”
No comments yet.