ফোনটা বাজে না কেন?
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 2 | পাঠসংখ্যা: 42
তবুও বারান্দার এক কোণে বসে আছেন মীরা দেবী। হাতে একটা পুরনো বাটিক ছাপা শাড়ি।
চোখ বারবার চলে যায় ফোনটার দিকে।
ঘড়িতে দুপুর ১টা।
আজ রবিবার।
“এই দিনটাই তো ছেলেটা ফোন করে… এখনো করলো না!” — মনে মনে ভাবে মা।
রাহুল, মীরা দেবীর একমাত্র ছেলে, এখন বিদেশে থাকে।
নতুন চাকরি, নতুন জীবন, নতুন পরিবার।
মায়ের সাথে যোগাযোগ এখন শুধুই “রবিবারের ১০ মিনিটের ফোনকল”।
মা প্রতিদিনই ভাবে, "বোধহয় ব্যস্ত ও। কিন্তু আমি তো শুধু শুনতে চাই, সে কেমন আছে!"
ছেলের দেওয়া ফোনটা তার কাছে এখন আশ্রয়।
সেদিন হঠাৎ রাতে মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
পাশের প্রতিবেশী তাকে নিয়ে যায় হাসপাতালে।
রাতে অনেকবার ভাবেন,
“রাহুলকে ফোন দেবো?”
না… ও তো নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে। আবার সকালে অফিস আছে।
একটা সময় নিঃশব্দে চোখ বুজে ফেলেন মীরা দেবী।
না, তিনি মারা যাননি।
কিন্তু তার ভিতরের “প্রতিদিনকার অপেক্ষার আলোটা” আস্তে আস্তে নিভে যেতে শুরু করে।
এক মাস পর ছুটি নিয়ে দেশে এল রাহুল।
মায়ের মুখে হাসি, চোখে জল।
সে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“আমি রোজ ভেবেছি ফোন করবি। তারপর ভাবতাম, তোর তো কাজ আছে।”
রাহুল চুপচাপ।
সে জানে, মায়ের ফোনে অনেক মিসড কল ছিল —
কিন্তু সে তখন মিটিংয়ে ছিল, ডিনারে ছিল, ব্যস্ত ছিল।
আজ মায়ের চোখে তাকিয়ে বুঝল,
“একটা ফোন না আসা মানে শুধু একটা রিং মিস হওয়া নয়… এটা একটা হৃদয়ের অপেক্ষা ভেঙে যাওয়া।”
শেষ কথা:
মায়ের ভালোবাসা কখনও কমে না, শুধু ধীরে ধীরে চুপ হয়ে যায়।
একটি ফোনকল, একটি ভিডিও কল — মায়ের একাকীত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ওষুধ।
আজই মাকে ফোন করুন।
কারণ তাঁর প্রশ্নটা এখনো একই —
"ফোনটা বাজে না কেন?"
tukludas05 (August 4, 2025)
হৃদয় স্পর্শ করে লেখাটা👌