ইনবক্সে থাকা মানুষটা
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 39
১
রাত্রি তখন দুটো ছুঁইছুঁই।
মিতালী বিছানায় শুয়ে, চোখ বন্ধ, কিন্তু ঘুম আসে না। ফোনটা পাশে পড়ে আছে। নোটিফিকেশন লাল করে জ্বলছে।
সে জানে কে লিখেছে।
তবু দেখছে না।
তবে ইনবক্সে নামটা খুব পরিচিত—"সব্যসাচী"।
ছয় বছর আগে এই ছেলেটিই ছিল তার সবকিছু। কলেজ ফেস্ট, হোস্টেলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে চুপচাপ অপেক্ষা, রিকশায় বসে একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা, কিংবা এক ফুচকার প্লেটে ভাগ করে খাওয়া—সবটুকুই ছিলো "তারা দুইজন"।
তবে সময় তার নিয়মে চলে।
হঠাৎ একদিন সব থেমে যায়।
মিতালী চলে যায় কর্পোরেট চাকরিতে, অন্য শহরে।
সব্যসাচী থেকেও যায়, ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে, অথচ দূরত্বে অস্পর্শ্য।
২
আজ হঠাৎ ছয় বছর পর ইনবক্সে তার মেসেজ:
“তুমি কি এখনো বই পড়ো?”
একটা সাধারণ প্রশ্ন, অথচ বুকের ভিতরে একটা অজানা ঢেউ তুলে দেয়।
সে রিভিউ করে পুরনো চ্যাট।
প্রথম “Hi”, প্রথম কবিতা, প্রথম ঝগড়া, আর সেই “Seen” লেখা শেষ মেসেজ যার উত্তর আর কখনো আসেনি।
আজ আবার প্রথম মেসেজের মতো করে ছেলেটা ফিরে এসেছে, খুব সাধারনভাবে।
কেন?
৩
মিতালী উত্তর দেয় না।
পরদিন অফিসে গিয়ে সারাদিন মুড অফ। সহকর্মীরা কিছু না বললেও বোঝে কিছু একটা আছে।
রাতে আবার আসে মেসেজ:
“এই শহরটা একা লাগছে। জানালার বাইরে এখনও তোমার মতো কেউ দাঁড়ায় না। কেমন আছো?”
এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না মিতালী।
“ভালো আছি। কিন্তু একা। জানালার বাইরে কেউ দাঁড়ায় না ঠিকই, তবে ইনবক্সে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে একটা পুরোনো মুখ।”
৪
এরপর শুরু হয় নতুন করে কথা বলা।
ভুল বোঝাবুঝির ইতি টেনে দুইজন আবার পুরনো পথে হাঁটতে শুরু করে, তবে এবার ভার্চুয়াল নয়, বাস্তবের দিকে পা বাড়িয়ে।
মিতালী একদিন জিজ্ঞেস করে,
“এই ছয় বছর পর হঠাৎ কেন মনে পড়লাম?”
সব্যসাচী বলে,
“কারণ আমি বুঝেছি, ভালোবাসা শুধুই স্মৃতির ইনবক্সে রেখে দিলে জীবন অনেক অপূর্ণ থেকে যায়।”
৫
তারা আবার দেখা করে।
চা, গল্প, গান—সব আবার শুরু হয়, তবে এবার আর 'Seen' হয়ে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই।
ইনবক্সের মানুষটা এবার সত্যিকারের জীবনটা বদলে দেয়।
শেষ।
No comments yet.