⏳ শেষ ট্রেনটা চলে গিয়েছিল
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 52
রাত ১১টা বেজে ৪৫ মিনিট।
একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে হাওড়া স্টেশনের শেষ ট্রেনটার দিকে তাকিয়ে।
ধীরে ধীরে দূরে চলে যাচ্ছে ট্রেনটা, আর তার চোখের কোণ ভিজে যাচ্ছে অজান্তেই।
লোকটার নাম নীলেশ দত্ত।
বয়স পঁইত্রিশ।
একটা বড় কোম্পানির ম্যানেজার।
দামী ঘড়ি, ব্র্যান্ডেড ব্যাগ, দামি ফোন—সব আছে, শুধু সময়টা নেই, যেটা তার বাবা-মা, স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটা বারবার চাইছিল।
কয়েক ঘণ্টা আগের ঘটনা:
সন্ধ্যা সাতটায় মেয়ের জন্মদিন ছিল।
স্ত্রী অনুরোধ করেছিল—
"আজ একটু আগে অফিস থেকে ফিরো, মেয়ে তোমার জন্য কেক কাটবে।"
নীলেশ বলেছিল—
“একটা ইমপোর্টেন্ট ক্লায়েন্ট আসছে । হয়ে গেলে ফিরব।”
ফিরেছিল ঠিক রাত ১১টায়।
ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখে ঘর অন্ধকার।
ডাইনিং টেবিলে একটি কাটা কেক, পাশে একটি ছোট্ট হাতে লেখা চিঠি—
“বাবা, তুমি আসোনি।
আমি কেক কেটেছি।
তোমার অংশটুকু রেখে দিয়েছি।
আমি তোমাকে সময় দেবো, তুমি কি আমায় একটু সময় দেবে?”
– তিথি
পিছনে মায়ের লেখা: "মেয়েকে নিয়ে মা-বাবার কাছে গেলাম কয়েকদিনের জন্য। কিছু সময় তোমারও দরকার হোক এবার আমাদের জন্য।”
নীলেশ ছুটল হাওড়া স্টেশনের দিকে।
যে ট্রেন বাবার বাড়ির দিকে যায়, সেটাই ছিল শেষ ট্রেন।
সে দৌঁড়েছিল, হাঁপিয়ে উঠেছিল, কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল—
“একটু দাঁড়াও... আমি এবার সময় দেবো...”
কিন্তু সময়টা শোনে না, সময়টা দাঁড়ায় না।
ট্রেনটা চলে গেল।
সে একা দাঁড়িয়ে থাকে, কেবল একটা কথাই মাথায় ঘুরতে থাকে—
“আমি তো শুধু একটা মিটিংয়ে ছিলাম, আমার তো সময় ছিল...”
না, ছিল না।
সব ট্রেন ফেরে না—কিছু ট্রেন চিরতরে চলে যায়। কারণ সময় কখনো অপেক্ষা করে না।
⏳ গল্পের শিক্ষা:
সময়ই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—যেটা একবার চলে গেলে ফেরে না।
আপনার প্রিয়জনেরা আপনার সময় চায়, আপনার টাকা নয়।
ব্যস্ততা জীবনের অংশ হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা যেন কখনো উপেক্ষিত না হয়।
No comments yet.