স্মৃতির দোকান
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 33
মানুষ এখন নিজের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, শৈশব—সব স্মৃতি ছোট একটা চিপে ধরে রাখতে পারে। সেই স্মৃতি আবার অন্য মানুষ কিনে নিতে পারে।
একটা দোকান আছে কলকাতার এক কোণে, যার নাম কেউ জানে না। মানুষ তাকে ডাকে "স্মৃতির দোকান" বলে। কাচে ঢাকা, ভেতরে নরম আলো, দেয়ালে একটামাত্র বাক্য—“আপনার মন খারাপ? অন্যের হাসি ধার নিন।”
মায়া প্রথমবার দোকানটিতে আসে। বয়স পঁইত্রিশ। বাবা-মা ছোটবেলায় মারা গেছেন। একসময় সংসার ছিল, ভেঙে গেছে। এখন থাকেন একা, এক চিলতে ঘরে, এক কাপ চা আর একফোঁটা শূন্যতার সঙ্গে।
দোকানের কাউন্টারে বসে আছে স্মরণ নামের এক শান্ত স্বভাবের মানুষ। চোখে মুখে কথা কম, কিন্তু দৃষ্টি গভীর।
মায়া তাকে বলল, “একটা স্মৃতি চাই। এমন কিছু… যেখানে কেউ আমাকে মা বলে ডাকে।”
স্মরণ কিছু না বলে একটা চিপ এগিয়ে দেয়। নাম—চিপ নম্বর ১৮৭২।
মায়া চিপটা নেয়। কানের কাছে লাগায়। চোখ বন্ধ করে।
একটা গন্ধ ভেসে আসে—লিচুর ফুলের মতো। একটা ছোট্ট মেয়ে দৌড়ে আসে, এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। বলছে, “মা… আজ আর অফিসে যাস না! আমি গল্প বলব তোকে!”
মায়ার বুক কেঁপে ওঠে। মাথায় হাত রাখে মেয়েটির। ওর কপালে চুমু খায়। যেন সত্যি কিছু স্পর্শ করছে।
একটা ঘণ্টা বাজে। সময় ফুরিয়ে যায়।
মায়া চোখ খুলে দেখে—সে দোকানেই বসে আছে। দোকান শান্ত, স্মরণ সেই একইরকম।
“এই স্মৃতি কার?” মায়া জিজ্ঞেস করে।
স্মরণ চিপটা স্ক্যান করে। একবার তাকায়, আবার দেখে। নিচে লেখা—“Source: Unknown”।
কিন্তু তার নিচেই স্পষ্ট লেখা—“DNA matched: ৮৭% with buyer”
স্মরণ ধীরে বলে, “এটা হয়তো আপনারই হারিয়ে যাওয়া কোনো স্মৃতি… ভুল করে কোথাও সংরক্ষিত হয়েছিল।”
মায়া চুপ করে থাকে। চিপটা হাতে নেয়। বাইরে চলে আসে। রাস্তা ভিজে, ছায়ায় ভরা। আকাশে হালকা রোদ।
হঠাৎ যেন দূরে কোথাও একটা কণ্ঠস্বর ভেসে আসে—
“মা…”
মায়া থেমে দাঁড়ায়। আকাশের দিকে তাকায়। তার ঠোঁটে একটুকরো হাসি।
প্রথমবার সে বুঝতে পারে—সে কারো কিছু ছিল।
হয়তো এখনও আছে।
No comments yet.