ট্রেনের হুইসেল
রেটিং: 0.0 ★ | লাইক: 0 | পাঠসংখ্যা: 47
অভি পড়ালেখা শেষ করে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে—ব্যাঙ্গালোরে। নতুন জীবন, নতুন শুরু।
রুদ্র এখনো কলকাতার অলিগলিতে স্ট্রাগল করছে। থিয়েটার করে, স্ক্রিপ্ট লেখে, ইউটিউব ভিডিও বানায়। টাকা খুব একটা জোটে না, কিন্তু স্বপ্ন জোটে অগুনতি।
দুজনেই একসঙ্গে বড় হয়েছে—একই স্কুল, একসঙ্গে ফুটবল খেলা, চায়ের দোকানে বসে স্বপ্নের গল্প। অভি চেয়েছিল সাফল্য, রুদ্র চেয়েছিল স্বাধীনতা।
স্টেশনে বিদায়ের সময় রুদ্র হেসে বলল,
"তোকে মিস করব রে, শা*লা!"
অভি তার কাঁধে হাত রাখে, "তুই একদিন সিনেমা করবি, তখন আমার অফিসের সবাইকে বলব—ওটা আমার বন্ধু!"
রুদ্র কিছু বলে না। শুধু ছোট্ট একটা খাম এগিয়ে দেয়।
“প্ল্যাটফর্মে বসে লিখেছিলাম। ট্রেনে বসে পড়িস।”
অভি মাথা নেড়ে ট্রেনে উঠে পড়ে। জানলার পাশে বসে সে খামটা খোলে।
ভিতরে ছোট্ট এক পাতার চিঠি—
“জানিস, অভি, তোকে আমি কখনো বলিনি…
তুই ছিলিস আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
তোর সাথে প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল ভালোবাসা।
তুই সফল হ, অনেক উঁচুতে যা…
আমি এখানেই থাকব, তোর গল্প লিখে যাব।”
—রুদ্র
চোখের কোণ ভিজে যায় অভির। ট্রেন চলতে শুরু করে। শহরের আলো ঝাপসা হয়ে যায়। আর একটা বন্ধুত্ব চুপচাপ বিদায় নেয় কলকাতার ট্রেনের হুইসেলের সাথে।
শেষ।
No comments yet.